আমার বন্দিনী মা (১ম পর্ব)

এই পর্বটি আমার বন্দিনী মা সিরিজের অংশ।

আমার নাম আবির| আজ তোমাদের আমি এমন একটি ঘটনা বলবো যা আমি আমার নিজের চোখের সামনে দেখেছি | এই ঘটনাটি শুরু হয়ে যখন আমার বাবা বদলি হয়ে বেঙ্গল আর বিহারের বর্ডারের একটি গ্রামে | আমি তখন খুব ছোট ছিলাম সেই সময়ে | সেই গ্রামে আমার বাবা আগে চলে গেছিলো এবং আমার স্কুলের পরিক্ষা চলছিলো বলে আমি আর আমার মা বাবার সাথে তখন যেতে পারিনি |পরিক্ষার শেষ হওয়ার পড়েই আমাকে আর মাকে নিয়ে ঠাকুর দা বাবার সেই গ্রামে নিয়ে গেলো| বাবা আমাদের নিয়ে আসার জন্য স্টেশনে এসেছিলো| মালপত্র গাড়িতে তুলে আমাদেরকে বাবা নিয়ে গিয়ে তুললো একটি বাংলোতে |

আমার বাবা একজন সরকারী ইঞ্জিনিয়ার ছিলো এবং ইঞ্জিনিয়ারদের থাকার জন্য ওই গ্রামে বাংলো দেওয়া হতো এবং বাংলো গুলো বেশ বড় হতো| বাংলোর পাশে বড় বাগান থাকতো|আমার মা গ্রামে আসার পর থেকে গ্রামের বিভতসো গরম নিয়ে একটু গজর গজর করছিলো কিন্তু পরে আমাদের থাকার বাংলো এবং আসে পাশে দেখে আনন্দে বলে উঠলো-“আমি যতো তা খারাপ ভেবেছিলাম…অতটা খারাপ নয়ে.”

ঠাকুরদা আমাদেরকে ওখানে রেখে পরের দিন কলকাতার জন্য রয়না দিয়ে দিল |আমাদেরকে স্টেশন থেকে ওই বাংলোতে যে ব্যক্তি নিয়ে এসেছিলো গাড়িতে, সেই একই লোক আমার ঠাকুরদাকে স্টেশনে নিয়ে গেলো| লোকটি নাম ছিলো রঘু, তিরিশের নিচে বয়েস হবে| হাটটা গাট্টা পেশিদার শরীর ছিলো রঘুর ,গায়ের রং তামাটে ছিলো এবং বেশ পুরুষালি ছিলো| বাবাকে অফিস থেকে বাড়িতে এবং বাড়ি থেকে অফিসে গাড়ি করে নিয়ে যাওয়ার কাজ ছিলো রঘুর|

এ ছাড়া আমাকে ওখানে যখন স্কুলে ভর্তি করে দেওয়া হলো, সেই স্কুলে আমাকে নিয়ে যাওয়ার পুরো দায়িত্ব ছিলো রঘুর| ওই গ্রামে বাজার হাট করতে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব ছিলো পুরো রঘুর| আমার মায়ের সাথে রঘুর ভালো বন্ধুত্ব হয়ে গেছিলো সময়ের সাথে| মাকে রঘু বৌদি বলে ডাকতো এবং মাকে একবার বলতে শুনেছিলাম রঘুকে সে তার ছোট ভাইয়ের মতো|

ওই বাংলোতে আরেক কাজের মাসি ছিলো| তার নাম ছিলো কমলা|কমলা মাসি আর মা সর্বদা গল্প করতো| কমলা মাসির কাছ থেকে মা প্রথম শুনেছিলো এই গ্রামের মেয়ের সংখা কম হওয়ার ব্যাপারে| এই গ্রামের মেয়েরা নাকি দুই তিন মরদের সাথে ঘর করে| সৌভাগ্য ক্রমে কমলা মাসির সেই দুর্ভাগ্য হয়েনি| মাকে বলতে শুনেছিলাম ভগবানের দয়ায়ে কুচ্ছিত হয়ে জন্মেছিলো বলে তার ভাগ্যে একের থেকে অধিক মরদ সামলানোর দয়িত্ব আর পড়েনি|

মা যদিও এই ব্যাপার গুলো বাবাকে জানিয়েছিলো| কমলা মাসি মাকে এও বলেছিলো যে মা যেনো এই গ্রামে একা কোথাও না যায়ে| গ্রামের এই নিরাপত্তার অভাবের ব্যাপারে মা বাবাকে জানানো সত্তেও বাবা তখন মায়ের কথা গ্রাহ্য করেনি প্রথমে এবং তার মাশুল আমাদের পরিবারকে ভবিষ্যতে দিতে হয়েছিলো|

আগেই বলেছিলাম আমাকে এখানে আসার পর এক স্কুলে ভর্তি করানো হয়েছিলো|সেই স্কুলে আমার প্রথম আলাপ হয়ে সুমন্ত সাথে|সুমন্ত আমার ক্লাসএ পরতো, বাকি ছেলেদের তুলনায়ে স্বভাবে ভালো ছিল এবং ভদ্র ছিল| স্কুলে অধিকাংশ ছেলেরা ওই গ্রামের ছেলে ছিল এবং বদমাশ অসভ্য ছিলো | সুমন্ত বাবা ওই গ্রামের গভর্নমেন্ট হাসপাতালে ডাক্তার ছিলো|

আমার স্কুল টা ভালো ছিলো না তা বাবা মা টের পেয়েছিলো এবং রোজ আমার পড়াশুনো নিয়ে মা আর বাবাকে কথা বলতে শুনতাম| মা স্কুলে ভর্তি করানোর সময়ে থেকে এক কথা বাবাকে বলে যেতো-“তোমার তো আগে একটু খোজ খবর নেওয়া দরকার ছিলো এই স্কুলে পড়াশুনোর ব্যাপার নিয়ে | বাবাই কে স্কুল টা ছাড়িয়ে নিয়ে আসা উচিত হয়েনি”

আমার বাড়ির নাম হচ্ছে বাবাই| মায়ের এই প্রশ্নে বাবা একি উত্তর দিতো যে তাকে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছিলো এই গ্রামের পড়াশুনোর ব্যাপারে কিন্তু আমার পড়াশুনোর ব্যাপার নিয়ে কিছু সমাধান বেড়াচ্ছিলো না| কোনো সময়ে আমাকে হোস্টেলে পাঠানোর কথা হতো আর কোনো সময়ে কথা চলতো আমাকে কলকাতায়ে পাঠিয়ে দিয়ে দাদু আর দিদার দায়িত্বে দিয়ে দিতে | এরকমও ভাবা হয়েছিলো মা আমাকে নিয়ে কলকাতায়ে ফিরে যাবে কিন্তু এতে মায়ের প্রচন্ড আপত্তি ছিলো কারণ সে বাবাকে একা ছেড়ে যেতে চায়ছিলো না |যাই হোক শেষ পর্যন্ত রঘু কাকু গাড়ি করে রোজ স্কুল যাওয়া চলতে লাগলো আমার| স্কুলে আমার শুধু বন্ধুত্ব ছিলো সুমন্তের সাথে|

সুমন্তর সাথে কথা বলে বুঝতে পারতাম সুমন্ত প্রচন্ড রাগ ছিলো এই গ্রামের উপর| তার কারণ কি সেটা তখন টের পেতাম না|একদিন সুমন্তকে নিয়ে বাড়িতে গেলাম এবং ওর আমার মাকে বেশ পছন্দ হয়েছিলো| আমিও সুমন্তের বাড়িতে গেছিলাম এবং সেই সূত্রে আমার মায়ের সাথে সুমন্তের মায়ের আলাপ আর বন্ধুত্ব হয়ে এবং খুব শিগ্রোহী সেই বন্ধুত্ব গিয়ে দাড়ায়ে পারিবারিক বন্ধুত্যে|

গ্রামে তেমন ভাবে কাউকে চিনতাম না বলে সুমন্ত পরিবারের সাথে আমাদের পরিবারের মাঝে মধ্যে মেলা মেশা হতো| আমার বাবার সাথে সুমন্তর বাবা শেখর কাকুর ভালো বন্ধুত্ব হয়ে গেছিলো| কিন্তু আমার বাবার আর মায়ের কেনো যেনো মনে হতো সুমন্তের পরিবার কিছু একটা লোকাচ্ছে| এই বিষয়ে বাবা মায়ের মধ্যে কথা বলতে শুনতাম|

সুমন্তর সাথে বন্ধুত্ব বাড়তে সুমন্ত অনেক কথা আমাকে জানাতে শুরু করলো | ও একদিন আমাকে বলেছিলো এই স্কুলে অনেক ছেলে আছে যাদের বাবা আলাদা লোক কিন্তু মা এক | স্কুলে শংকর সেথ বলে আমাদের থেকে দু শ্রেণী উপরে একটি ছেলে সুমন্তকে একা পেলে নিজের বন্ধুদের সাথে ঘেরাও করে খুব নোংরা নোংরা কথা বলতো| সব কথা সুমন্তের মা শিখা কাকিমাকে নিয়ে বলতো এবং সুমন্ত মাঝে মধ্যে কেদে ফেলতো ওই সব শুনে কিন্তু কিছু বলতো না| আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করতাম -“তুই টিচার কে কমপ্লেন করিস না কেন এই ব্যাপারে”

সুমন্ত আমাকে বাধা দিয়ে বলতো-“না …তুই জানিস না…ওর বাবা ভালো লোক নয়ে|”

আমি-“তুই এরকম ভয় পাস কেনো?”

সুমন্ত-“তুই বুঝবি না অবির…”

আমি-“তুই যদি কমপ্লেইন না করিস তাহলে আমি করবো..”

সুমন্ত-“কোনো লাভ নেই অভি…”

আমি সুমন্তের কথা না শুনে টিচার কে এই ব্যাপারে বললাম কিন্তু সে কিছুই করলো না| সুমন্তের কথা সত্যি হলো| একদিন শংকর সেথ তার বন্ধুদের সাথে সুমন্ত কে আবার যখন ঘেরাও করলো, আমি গিয়ে সুমন্তের পাশে দাড়ালাম| আমাকে ওরা পাত্তা না দিয়ে সুমন্তের পিছনে লাগতে শুরু করলো| আমি সহ্য না করতে পেরে শংকরকে ধাক্কা মারলাম| শংকর চেচিয়ে উঠলো-“কে রে তুই…অনেক দিন ধরে দেখছি ওস্তাদি মারছিস…নতুন এসছিস স্কুলে ….আগে যান আমি কে?”

শংকর আমাদের থেকে ২ ক্লাস উপরে পড়লেও বয়েসে আমার থেকে চার বছর বড় ছিলো| এর কারণ ছিলো দুই বছর ফেল করেছিলো একই ক্লাসে শংকর সেথ| আমি বলে বসলাম-“ওকে তোমরা জ্বালাবে না…”

শংকর সেথ আমাকে পাত্তা না দিয়ে-“ভাগ এখান থেকে ইদূর কথাকারের”

শংকর আমার থেকে সাস্থবান হওয়া সত্তেও আমাদের দুজনের মধ্যে মারপিট লেগে গেলো| শঙ্করকে বেশি মারার চেয়ে নিজে বেশি মার খেলাম ওর হাতে| শেষে টিচার এসে আমাদের দুজনকে ছাড়ালো| হেডমাস্টার আমাদের দুইজনের বাবা মাকে ডেকে পাঠালো| শঙ্করের হাতে মার খাওয়ার দাগ আমার মুখে দেখে মা বেশে রেগে গেছিলো| বাবাকে বলতে শুরু করলো-“একটা অশিক্ষিত অসভ্য জায়গায়ে নিয়ে এসেছো….ওই স্কুলে মানুষের ছেলে পড়াশুনো করে..সব গুন্ডার দল…এগুলো সব তোমার জন্য হয়েছে|”

বাবা আমতা আমতা করে বলল-“হেডমাস্টার তো বলল তোমার ছেলে তো কোমর বেধে মারপিট করছিলো এবং প্রথমে ওই শুরু করেছিলো|”
মা-“বাজে কথা বোলো না..আগে তো বাবাই কোনদিনও এরকম করেনি….বাবাই তো বলল সুমন্ত কে ওই ছেলেটা উল্টোপাল্টা বলছিলো বলে ও ওকে মেরেছে….”
বাবা-“যাই হোক…আমাকে এখন কাজ বাদ দিয়ে যেতে হবে..”

মা-“তোমাকে যেতে হবে না..আমি যাবো…রঘুকে বলবো নিয়ে যেতে আমাকে…”

এই গল্পের পরবর্তী পর্ব

গল্পটি কেমন লাগলো এবং পরবর্তীতে কোন ক্যাটাগরির গল্প চান? কমেন্ট করে জানান। ধন্যবাদ!

মন্তব্য করুন

অ্যাকাউন্ট দিয়ে মন্তব্য করতে লগইন করুন, অথবা অতিথি হিসেবে মন্তব্য করুন।
Drajdas
০৩/০৭/২০২৪

Darun hoyeche story tar abir maaer jordar chudon chai mage jano bazer mage hoi jay r bachaa peday kora

আফ্রিদি → Drajdas
০৫/০৭/২০২৪

এই সম্পুর্ন গল্প অনেক আগেই শেষ করেছি

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 thoughts on “আমার বন্দিনী মা (১ম পর্ব)”

  1. Darun hoyeche story tar abir maaer jordar chudon chai mage jano bazer mage hoi jay r bachaa peday kora

নিরাপত্তার জন্য আমাদের কনটেন্ট কপি করা নিষিদ্ধ!